
কবিতা
আলোর অপেক্ষা এত দীর্ঘ কেন?
সেই কবে থেকে
আমার জানালায় ভোর আসে না,
সেই কবে থেকে
সূর্যের মুখ দেখিনি—
শুধু অন্ধকারের সঙ্গে
দিন গুনে গেছি।
বলেছিল সবাই—
রাত যত গভীর হয়,
ভোর তত কাছে আসে।
তবে এই রাতের
শেষ কোথায়?
কত ভোর পেরিয়ে গেল,
কত সূর্য উঠল—
তবু মানুষের চোখে
আলো ফুটল না!
মানুষ আজ মানুষকে ভয় পায়,
অসহায়ের কান্না
শব্দের ভিড়ে হারিয়ে যায়,
ন্যায়ের দরজায় দাঁড়িয়ে
অধিকার ফিরে আসে না।
কেউ ক্ষুধা নিয়ে ঘুমায়,
কেউ অন্যের ক্ষুধার ওপর
প্রাসাদ তোলে—
আর আমরা নির্বাক দেখি,
তারপরও বলি,
পৃথিবী সুন্দর!
কোথায় সেই সুন্দর পৃথিবী—
যেখানে মানুষ
মানুষের ক্ষত দেখে কাঁদবে?
যেখানে অন্যের অশ্রু
নিজের চোখে এসে জমবে?
যেখানে কোনো শিশুর
স্বপ্ন বিক্রি হবে না
এক মুঠো ভাতের কাছে?
আমি সেই পৃথিবী চাই।
যেখানে ক্ষমতা নয়—
মানবতা বড় হবে,
অর্থ নয়—
অধিকার বড় হবে,
প্রতিহিংসা নয়—
ভালোবাসা মানুষের ভাষা হবে।
কেউ কি আছেন?
এই অন্ধকারের ভেতর
একটি প্রদীপ জ্বালাবেন?
একটি মাত্র আলো—
হয়তো আপনার হাতের,
হয়তো আমার হাতের,
হয়তো কোনো অচেনা মানুষের…
জ্বালান।
কারণ অন্ধকারকে
গালি দিয়ে কখনো ভোর হয় না,
ভোরের জন্য
কেউ একজনকে
প্রথম প্রদীপটি জ্বালাতেই হয়।
তাই আজও অপেক্ষায় আছি—
আসবে কি আলো?
কাটবে কি আঁধার?
পাবো কি সেই পৃথিবী,
যেখানে মানুষের হৃদয়ে
মানুষের জন্য জায়গা থাকবে?
নাকি—
আমরাই একদিন
আলো খুঁজতে খুঁজতে
অন্ধকারের সঙ্গে
চিরদিনের জন্য
অভ্যস্ত হয়ে যাব?
আলো আর আসবেনা বলে।
লেখক কলামিস্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক গবেষক সরিষাবাড়ি জামালপুর