
কবিতা
তোমার দেওয়া আঘাত
শরীরে লাগেনি—
নিঃশব্দে নেমে গেছে
রূহের অতল গহিনে।
সেখানে আজও
একটি কান্না ঘুমিয়ে আছে,
শব্দহীন—
তবু তার দীর্ঘ প্রতিধ্বনি
আমার সমস্ত রাত জুড়ে।
তুমি জানতে,
কোন স্পর্শে আমি কেঁপে উঠি,
কোন নীরবতায়
আমার ভেতরের আকাশ
হঠাৎ অন্ধকার হয়ে যায়।
তবু আঘাত করেছো
ঠিক সেইখানেই।
অচেনা মানুষের আঘাত
শুধু ব্যথা দেয়,
আপন মানুষের আঘাত
মানুষকে ধীরে ধীরে
নিজের কাছেই অচেনা করে তোলে।
তোমার অবহেলাকে
আমি অভিমান ভেবেছি,
দূরত্বকে দিয়েছি অপেক্ষার নাম;
নিজেকে কত মিথ্যে বলেছি
শুধু তোমাকে
সত্যি রাখার জন্য।
কত নিঃশব্দ রাতে
বুকের ভেতর চিৎকার করেছি—
কেউ শোনেনি।
তুমি তো নও-ই,
এমনকি আমিও না।
সবচেয়ে নির্মম এইটুকু—
যে মানুষটি
আমার ক্ষতের কারণ,
মন আজও
তার কাছেই আরোগ্য খোঁজে।
তোমাকে হারানোর বেদনা নয়,
আমাকে গভীরতর করে ভেঙেছে
একটি সত্যের উপলব্ধি—
তুমি কোনোদিন আমার ছিলে না,
আমি শুধু
তোমাকে আমার ভেবে
একটি জীবন কাটিয়ে দিয়েছি।
তাই আজও
তোমার কথা মনে পড়লে
চোখে জল নামে না;
শুধু বুকের গহিনে
একটি দীর্ঘশ্বাস
ধীরে ধীরে রক্ত হয়ে ঝরে।
আর রূহের নিঃসঙ্গ অন্ধকারে
একটি প্রশ্ন
আজও নিঃশব্দে জেগে থাকে—
যাকে এতটা ভালোবাসা যায়,
তার কাছ থেকেই
কেন আসে
সবচেয়ে গভীর আঘাত?
লেখক কলামিস্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক গবেষক সরিষাবাড়ি জামালপুর