
কবিতা
আমি সাধুর নগরী ঘুরে
পাইনি কোনো সাধন,
সাধুর দ্বারেও ঝরে অশ্রু—
অন্তরে কেবল রোদন।
মোল্লার নগর ঘুরে দেখি
বাহিরে কেবল দাড়ি,
ভেতরে তাদের হিসাব চলে—
কত টাকায় কত বাড়ি!
পুরোহিতের নগর দেখি
মন্ত্র পড়ে দিনরাত,
দেবতার নামে দান ওঠে—
গরিবের ঘরে ভাত নেই আজ।
পাদ্রির নগর ঘুরে দেখি
ক্রুশ ঝোলে বুকে,
প্রেমের বাণী মুখে তাদের—
ক্ষমতার মধু সুখে।
ভিক্ষুর নগর নীরব খুব,
শান্তির বুলি ঝরে,
সোনার বুদ্ধ হাসেন শুধু—
ক্ষুধার্ত শিশু মরে।
রাব্বির নগর জ্ঞানী সাজে,
গ্রন্থের পাতা খোলে,
ন্যায়ের কথা মুখে তাদের—
স্বার্থের তরবারি দোলে।
সব ধর্মের প্রধান দেখি
ধর্ম নিয়ে কারবার,
ঈশ্বর যেন সই-সাবুদে
তাদের হাতে বন্দী কারাগার।
কেউ বলে, ‘আমার পথই সত্য,’
কেউ বলে, ‘আমিই গুরু,’
নিজের ঘরে আগুন জ্বলে—
অন্যের ঘরে খোঁজে চোর।
মসজিদ, মন্দির, গির্জা ঘুরে
পেলাম কত বাণী,
মানুষ খুঁজে পেলাম না আর—
সবাই কেবল ধর্মের পাহারাদার জানি।
যে হাতে ছিল তসবিহ-মালা,
সে হাতেই লোভের জাল,
যে মুখে ছিল মুক্তির বুলি,
সে মুখে মানুষের কাল।
আমি তাই আর সাধু খুঁজি না,
খুঁজি না ধর্মের দ্বার,
মানুষ যদি মানুষ না হয়—
সব ধর্মই রূপের বাজার।
রূপের নগরী জ্বলুক এবার,
মিথ্যার উঠুক ক্ষয়,
মানুষের চেয়ে বড় যে ধর্ম
এই সত্যটুকু সবার হৃদয়ে রয়।
লেখক কলামিস্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক গবেষক সরিষাবাড়ি জামালপুর