নিজস্ব প্রতিবেদক
জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার ৪ নং আওনা ইউনিয়নের কুলপাল খেয়াঘাট থেকে ২ নং পোগলদিঘা ইউনিয়নের দামোদরপুর, চর পোগলদিঘাসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় মাদকের অবাধ বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এসব এলাকায় মাদক কেনাবেচার একটি শক্তিশালী চক্র সক্রিয় রয়েছে। বিশেষ করে নদীপথ ও দুর্গম চরাঞ্চলের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য আনা-নেওয়া ও বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে স্থানীয় পরিবেশ যেমন অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে, তেমনি এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে তরুণ সমাজের ওপর।
মাদকের সহজলভ্যতার কারণে এলাকার অনেক তরুণ ও যুবক বিপথে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন অভিভাবকরা। সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তারা। মাদকের টাকা জোগাড় করতে গিয়ে কেউ কেউ নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়তে পারে—এমন আশঙ্কাও করছেন সচেতন মহল।
স্থানীয়দের দাবি, মাদকের বিস্তারের সঙ্গে এলাকায় চুরি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধের ঘটনাও বেড়ে গেছে। রাতের বেলায় চলাচলের সময় অনেকেই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। বিশেষ করে খেয়াঘাট, চরাঞ্চলের সড়ক ও নির্জন এলাকাগুলোতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং নির্দিষ্টভাবে কারা মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত—তা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তের বিষয়। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে প্রমাণ ছাড়া মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে চিহ্নিত করা উচিত নয়। এলাকাবাসীও চান, অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হোক।
সচেতন মহল বলছে, শুধু অভিযান চালিয়ে মাদক নির্মূল করা সম্ভব নয়। মাদক সরবরাহের উৎস বন্ধ করার পাশাপাশি বিক্রেতা, সরবরাহকারী ও মাদকের সঙ্গে জড়িত চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের উদ্যোগও প্রয়োজন।
এলাকার জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক, অভিভাবক, ধর্মীয় নেতা এবং সাধারণ মানুষকে নিয়ে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছেন স্থানীয়রা। কারণ একটি এলাকায় মাদক বিস্তার লাভ করলে শুধু একজন ব্যক্তি নয়, ক্ষতিগ্রস্ত হয় পুরো পরিবার এবং সমাজ।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, কুলপাল খেয়াঘাট থেকে দামোদরপুর ও চর পোগলদিঘাসহ আশপাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত নজরদারি বাড়ানো হবে। সন্দেহজনক চলাচল ও মাদক কেনাবেচার বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি চুরি-ছিনতাই প্রতিরোধে রাতের টহল জোরদার করা হবে।
মাদক একটি সামাজিক ব্যাধি। এর বিরুদ্ধে শুধু প্রশাসন নয়, সমাজের প্রতিটি মানুষের দায়িত্ব রয়েছে। কোনো এলাকায় মাদক কেনাবেচার তথ্য জানা থাকলে আইন নিজের হাতে না তুলে নিয়ে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।
কুলপাল খেয়াঘাট থেকে চর পোগলদিঘা—এই বিস্তৃত এলাকায় শান্তি ও নিরাপদ পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। মাদকের বিস্তার বন্ধ করা গেলে অপরাধ কমার পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মকে ধ্বংসের পথ থেকেও রক্ষা করা সম্ভব হবে।
এখন এলাকাবাসীর একটাই প্রত্যাশা—মাদকমুক্ত নিরাপদ সমাজ। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর পদক্ষেপের পাশাপাশি সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় গড়ে উঠুক মাদক ও অপরাধমুক্ত একটি সুন্দর পরিবেশ। আসুন আমরা একে অপরকে সহযোগিতা করে মাদক মুক্ত সমাজ গড়ে তুলি।