নিজস্ব প্রতিবেদক
জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার পোগলদিঘা এলাকায় যমুনা সার কারখানার বিষাক্ত পানি ও জলাবদ্ধতায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পোগলদিঘা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়সহ আশপাশের শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সার কারখানার পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা নিয়ে নানা সমস্যা রয়েছে।

পর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় কারখানার পানি ও বৃষ্টির পানি একত্র হয়ে আশপাশের নিচু এলাকায় জমে থাকছে। এতে বসতবাড়ি, রাস্তা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশপাশে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।
সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন পোগলদিঘা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা। বিদ্যালয়ের আশপাশে পানি জমে থাকায় শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিকভাবে যাতায়াত করতে হচ্ছে ঝুঁকি নিয়ে। অনেক সময় পানির মধ্য দিয়েই বিদ্যালয়ে প্রবেশ করতে হচ্ছে তাদের। এতে একদিকে যেমন শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ বাড়ছে, অন্যদিকে তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, জমে থাকা পানির কারণে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। ঘরবাড়ির আশপাশে পানি জমে থাকায় অনেক পরিবারকে চরম ভোগান্তির মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে। রান্না, চলাচল, শিশুদের স্কুলে পাঠানোসহ দৈনন্দিন কাজেও তৈরি হয়েছে নানা সমস্যা।
এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, দীর্ঘসময় পানি জমে থাকায় দুর্গন্ধ সৃষ্টি হচ্ছে এবং মশা-মাছির উপদ্রব বাড়ছে। ফলে পানিবাহিত রোগ ও অন্যান্য স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন তারা। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও শিক্ষার্থীদের নিয়ে উদ্বিগ্ন পরিবারগুলো।
স্থানীয়দের দাবি, বিষয়টি শুধু জলাবদ্ধতার সমস্যা নয়; কারখানার পানি কোথা দিয়ে এবং কীভাবে নিষ্কাশন হচ্ছে, সেই বিষয়টিও যথাযথভাবে পরীক্ষা করা প্রয়োজন। যদি পানিতে ক্ষতিকর কোনো উপাদান থাকে, তাহলে তা পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য কতটা ঝুঁকিপূর্ণ—সেটিও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে খতিয়ে দেখতে হবে।
এলাকাবাসী দ্রুত কার্যকর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা চালুর দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে জমে থাকা পানি দ্রুত অপসারণ, পানি নিষ্কাশনের পথ পরিষ্কার করা এবং ভবিষ্যতে যাতে এমন পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে জন্য স্থায়ী সমাধানের দাবি তাদের।
স্থানীয়রা বলছেন, তারা কোনো ধরনের সংঘাত চান না; তারা চান সমস্যার দ্রুত সমাধান। একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং শতাধিক পরিবারের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ফিরিয়ে আনা এখন জরুরি।
এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, যমুনা সার কারখানা কর্তৃপক্ষ এবং পানি নিষ্কাশনের দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট বিভাগকে দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
পানি যত দ্রুত নিষ্কাশন করা যাবে, তত দ্রুত স্বাভাবিক হবে এলাকার পরিবেশ। তাই জনদুর্ভোগ বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত পানি নিষ্কাশন ও সমস্যার স্থায়ী প্রতিকারের ব্যবস্থা করা হবে—এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয় বাসিন্দাদের। আসনু মানবিকতায় পানি বন্ধী মানুষের পাশে সহযোগিতার করে দ্রুত সমস্যা সমাধানে এগিয়ে যাই।