কবিতা
স্মৃতিগুলো রাখবার জন্য
খুব শক্ত করে একটা সিন্দুক বানিয়েছিলাম—
লোহার পাতে ঢাকা,
দামী তালায় বন্ধ।
ভেতরে তুলে রেখেছিলাম
একটা রোদভেজা বিকেল,
তোমার চুলে জড়িয়ে থাকা হাওয়া,
দুটো চায়ের কাপ,
বৃষ্টির নিচে পাশাপাশি হাঁটার শব্দ
আর বিদায়ের সময়
চোখে জমে থাকা নীরবতা।
ভেবেছিলাম,
এবার সবকিছু নিরাপদ—
কোনো পুরোনো দিন
আর দরজায় কড়া নাড়বে না।
কিন্তু গভীর রাতে
সিন্দুকের ভেতর শব্দ হয়।
তোমার হাসি বেরিয়ে এসে
জানালার পাশে বসে,
ঘরে ছড়িয়ে পড়ে
ভেজা মাটির গন্ধ;
অন্ধকারে হঠাৎ শুনি—
“ভিজো না, ঠান্ডা লেগে যাবে।”
আমি চোখ মেলি—
কেউ নেই।
শুধু বালিশের পাশে
একটু পুরোনো উষ্ণতা
এখনও পড়ে থাকে।
তখন বুঝি,
স্মৃতি কোনো সিন্দুকে থাকে না;
সে থাকে রক্তের ভেতর,
নিঃশ্বাসের গোপন ভাঁজে।
মানুষ চলে যায়,
সময় তার চেহারা বদলে দেয়—
তবু কিছু মুহূর্ত
নিজেদের বয়স বাড়তে দেয় না।
তাই সিন্দুকটা এখন খোলা।
তালা পড়ে আছে এক পাশে।
কারণ তোমাকে হারিয়েছি ঠিকই,
কিন্তু তোমার রেখে যাওয়া দিনগুলোকে
হারাতে পারিনি।
রাত গভীর হলে
তুমি এখনও ফিরে আসো—
ছোঁয়া যায় না,
তবু খুব কাছে মনে হয়।
হাত বাড়ালেই
মুঠোয় শুধু অন্ধকার।
আর সেই অন্ধকারের ভেতরেই
আমি আজও
তোমার মুখটা দেখি।
লেখক কলামিস্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক গবেষক সরিষাবাড়ি জামালপুর