মেস বউল হক মুহিত ইতালি থেকে :
ইউরোপের দেশ বেলজিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়েছে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণে এক শোকসভা ও আলোচনা অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী ও সাবেক সংসদ সদস্য ডক্টর হাসান মাহমুদ। সভায় তিনি ১৫ আগস্টের ঘটনায় নিহত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের সকল শহীদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।
বক্তৃতার শুরুতেই ডক্টর হাসান মাহমুদ বলেন, ১৫ আগস্ট বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি অত্যন্ত বেদনাবিধুর অধ্যায়। এই দিনে ঘাতকের নির্মম গুলিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ তাঁর পরিবারের বহু সদস্য নিহত হন। তিনি শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তাঁদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
আলোচনা সভায় তিনি তাঁর রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন বিষয় নিয়েও কথা বলেন। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর, ৫ আগস্ট ২০২৪-এর রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে তিনি জীবনের নিরাপত্তার আশঙ্কায় ইউরোপের দেশ বেলজিয়ামে অবস্থান করছেন বলে বক্তব্যে উল্লেখ করেন।
বেলজিয়ামে অবস্থান করেও দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে নানা বিষয়। তিনি তাঁর রাজনৈতিক পথচলায় যারা বিভিন্ন সময় দলীয় কার্যক্রমে সহযোগিতা করেছেন, তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
ডক্টর হাসান মাহমুদ তাঁর বক্তব্যে আওয়ামী লীগের তৃণমূল পর্যায় থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। তাঁর বক্তব্যে দলকে সুসংগঠিত করা এবং নেতাকর্মীদের মধ্যে পারস্পরিক ঐক্য ও সংহতি বজায় রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নিজেদের মধ্যে বিভেদ ভুলে সংগঠনের স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কেন্দ্রের নেতাদের সমন্বয় আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজন রয়েছে বলেও তিনি বক্তব্যে উল্লেখ করেন।
এ সময় তিনি আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রতি আস্থা প্রকাশ করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ডিসেম্বরের মধ্যে শেখ হাসিনা বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন করবেন এবং দেশে ফিরে দেশ পুনর্গঠনে ভূমিকা রাখবেন। তবে এটি তাঁর বক্তৃতায় দেওয়া রাজনৈতিক বক্তব্য ও প্রত্যাশা—এর বাস্তবায়ন ভবিষ্যতের রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে।
সভায় উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে ডক্টর হাসান মাহমুদ আরও বলেন, কঠিন সময়ে সংগঠনের প্রতি দায়িত্বশীল থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিদেশের মাটিতে থেকেও আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা যেন পারস্পরিক যোগাযোগ বজায় রাখেন এবং দলীয় ঐক্য ধরে রাখেন—এমন আহ্বানও জানানো হয়।
বেলজিয়ামে আয়োজিত এই শোকসভা ও আলোচনা অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগ এবং সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা ১৫ আগস্টে নিহত শহীদদের স্মরণ করেন এবং তাঁদের আত্মার শান্তি কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা করেন। একই সঙ্গে প্রবাসে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে সাংগঠনিক যোগাযোগ আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভায় আগত নেতাকর্মীদের মধ্যে দলীয় ঐক্য বজায় রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়। রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্যেও সংগঠনের প্রতি নিজেদের দায়িত্ব পালনের অঙ্গীকার করেন উপস্থিত অনেকেই।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। দোয়ার মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ ১৫ আগস্টে নিহত সকল শহীদের জন্য মহান আল্লাহর কাছে রহমত ও মাগফিরাত কামনা করা হয়।
পরে সভায় আগত নেতাকর্মীদের আপ্যায়নের ব্যবস্থা করা হয়। এর মধ্য দিয়ে বেলজিয়ামে আয়োজিত শোকসভা ও আলোচনা অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে।
এদিকে, বেলজিয়াম আওয়ামী লীগের এই আয়োজনকে কেন্দ্র করে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। বেলজিয়ামে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সাংগঠনিক অবস্থান ধরে রাখার জন্য ইউরোপের বিভিন্ন দেশের নেতৃবৃন্দের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা ও শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়।
সবশেষে বলা যায়, বেলজিয়ামে অনুষ্ঠিত এই শোকসভা শুধু ১৫ আগস্টের শহীদদের স্মরণেই সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং দলীয় ঐক্য, সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কর্মকৌশল নিয়েও আলোচনা হয়েছে। সভায় উপস্থিত নেতাকর্মীদের মধ্যে ছিল ঐক্যবদ্ধ থাকার প্রত্যয় এবং নিজেদের সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত রাখার অঙ্গীকার।
প্রবাসের মাটিতে অনুষ্ঠিত এই আয়োজনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ ও ঐক্য আরও সুদৃঢ় করার বার্তা দিয়েছেন। তবে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নেতৃত্বের প্রত্যাবর্তন এবং দলীয় কর্মকাণ্ড কোন দিকে এগোবে—তা নির্ভর করবে দেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতা ও ভবিষ্যৎ ঘটনাপ্রবাহের ওপর।