প্রদীপ চন্দ্র মম
টাকা আসে—
শীতের কুয়াশার মতো নিঃশব্দে,
কখনো রৌদ্রের মতো উজ্জ্বল হয়ে
মানুষের মন ভাসে সুখের আলাদিনে,
আবার সেই টাকাই একদিন
নির্জন রাতের মতো
চোখের ভিতর নামিয়ে দেয় অন্ধকার।
মানুষ তখন
ধানসিঁড়ির তীরে দাঁড়িয়ে ভাবে—
আরও কিছু চাই,
আরও কিছু জমুক মাটির নিচে,
আরও কিছু থাকুক সিন্দুকের গোপন ঘরে;
যেন মৃত্যুকে কেনা যায়
স্বর্ণমুদ্রার বিনিময়ে।
কিন্তু মৃত্যু—
সে তো কোনো বাজারের ক্রেতা নয়;
তার কাছে ধনীর ধন
আর দরিদ্রের শূন্য হাত
একই নীরবতার নাম।
কত টাকা জমে থাকে
মানুষের ঘরের সিন্দুকে
কত হিসাব পড়ে থাকে
পুরোনো খাতার পাতায়—
তবু একদিন মানুষ চলে যায়,
শুধু জানালার পাশে পড়ে থাকে
একটি নিঃসঙ্গ বিকেল।
তখন বোঝা যায়—
টাকা সুখ কিনতে পারে,
দুঃখকে দীর্ঘ করতে পারে,
মানুষের চারপাশে তুলে দিতে পারে
অগণিত দেয়াল;
শুধু পারে না—
একটি জীবনকে
মৃত্যুর ওপারে নিয়ে যেতে।
তাই আজও সন্ধ্যা নামলে
ধানের গন্ধে, পাখির ডাকে,
নদীর ঘোলা জলে
আমি খুঁজি মানুষের সত্যিকারের সম্পদ—
একটু ভালোবাসা,
একটু মায়া,
আর কারও স্মৃতিতে
বেঁচে থাকার ক্ষীণ আলো।
টাকা থেকে যায়—
মানুষ থাকে না;
সিন্দুক থেকে যায়—
হাত থাকে না।
শেষে শুধু রাত নামে,
ঘাসের ওপর শিশির পড়ে,
আর পৃথিবী খুব ধীরে বলে যায়—
টাকার ওপারে ঘনঘোর অন্ধকার।
১৭/০৮/২০২৬ খ্রিঃ।