কবিতা
পুরুষ মানুষ হয়েছি তো—
হাত ভরে দিতে হবে সবাইকে,
নিজের মুঠো শূন্য হলেও
হাসতে হবে পৃথিবীতে।
আয় করতে হবে দু’হাতে,
ঘাম ঝরাতে হবে রক্তের মতো;
কারণ আমার ক্লান্তির চেয়ে
সংসারের প্রয়োজন বড়।
বাবার ওষুধ,
মায়ের মুখ,
সন্তানের আবদার,
প্রিয় মানুষের ছোট্ট স্বপ্ন—
সবাই চায় আমার কাছে;
কেউ দেখে না
আমার বুকের ভেতর
কতটা রাত জমে আছে।
পুরুষ মানুষ কাঁদে না—
এই কথাটাই সবচেয়ে বড় মিথ্যে!
পুরুষও কাঁদে—
শুধু তার কান্নার শব্দ নেই;
বালিশ ভেজে রাতে,
সকালে চোখ মুছে
আবার বেরিয়ে পড়ে রোজগারের পথে।
সে ভেঙে যায়—
তবু সংসারের সামনে
দেয়ালের মতো দাঁড়িয়ে থাকে;
সে ক্লান্ত হয়—
তবু সন্তানের মুখের হাসির কাছে
নিজের ব্যথা বন্ধক রাখে।
কত স্বপ্ন ছিল তারও—
একটু বিশ্রাম,
একটু ভালোবাসা,
কেউ একজন বলবে—
“তুমি আর কষ্ট করো না,
আজ তোমার জন্য
আমরা আছি।”
কিন্তু সে কথাটা
বড্ড কমই শোনা হয়।
তাই পুরুষ মানুষ
প্রতিদিন একটু একটু করে
নিজেকে নিঃশেষ করে—
অন্যের সুখের প্রদীপ জ্বালাতে জ্বালাতে
নিজেই একদিন
নিভে যাওয়া বাতি হয়ে যায়।
পুরুষ মানুষ হওয়া মানে—
শুধু উপার্জন করা নয়;
নিজের চোখের জল লুকিয়ে
প্রিয় মানুষগুলোর চোখে
একটু স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখা।
আর সবচেয়ে বড় সত্য—
যে পুরুষটি সবাইকে হাত ভরে দেয়,
তারও কখনো কখনো
একটি হাত দরকার হয়—
শুধু তাকে ধরে বলার জন্য,
“ভয় পেয়ো না,
এবার তুমি একটু কাঁদতে পারো।”
লেখক কলামিস্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক গবেষক সরিষাবাড়ি জামালপুর