কবিতা
বিদ্যুৎ তুমি কারেন্ট কেন,
কারেন্ট হয়েও বেরসিক?
আসবে বলে দাও যে কথা,
শেষে দেখি—বড্ড ফাঁকিবাজ ঠিক!
কখনো আসো, কখনো যাও,
কখনো আসো রাতের শেষে—
সুইচটা টিপে বসে থাকি,
তুমি থাকো কোন দেশে?
শহর জুড়ে আলো ঝলমল,
নিয়ন বাতি হাসে,
গ্রামটা তখন অন্ধকারে
কুপির পাশে বসে।
মন্ত্রীপাড়ায় থাকো বেশি,
এমপি পাড়ায় কম,
জনগণের নাও না খবর—
করে যাও বিভাজন!
মন্ত্রীপাড়ায় ফ্যানটা ঘোরে,
এসি চলে সারারাত,
গ্রামের ঘরে হাতপাখাতে
ঘামে ভেজে কপাল-পাত!
শহর বলে—“আলো চাই!”
সঙ্গে সঙ্গে আলো আসে,
গ্রামটা বলে—“আলো দাও!”
অন্ধকারই পাশে হাসে!
কৃষকের যে সেচের পানি,
বিদ্যুৎ ছাড়া থামে,
শিশুর খাতায় অঙ্কগুলোও
অন্ধকারে নামে।
ফ্রিজের ভিতর মাছটা পচে,
চার্জহীন সব ফোন,
বিলের বেলায় কিন্তু তুমি
একেবারেই কড়াকড়ি—
বিল আসে ঠিক কোন!
তখন তুমি কারেন্ট ভাই,
বিলের বেলায় তেজ—
আলো চাইলে লুকাও কোথায়?
এ কেমন তোমার রেজ?
বিদ্যুৎ তুমি ছল করো গো,
নাকি করো খেলা?
ক্ষমতার ঘরে পূর্ণিমা,
জনতার ঘরে মেলা—
অন্ধকারের মেলা!
তোমার তারে বিদ্যুৎ আছে,
নেই কেন সমান আলো?
কারও ঘরে ঝাড়বাতি জ্বলে,
কারও ঘরে কুপি ভালো!
শহর-গ্রাম আর মন্ত্রী-এমপি—
কেন এমন ভেদ?
জনগণ তো একই দেশের,
তবু কেন এই ছেদ?
মনে রেখো, কারেন্ট ভাই,
অন্ধকারের দিন ফুরাবে—
যে ঘরগুলো আলো চেয়েছে,
একদিন তারাই আলো জ্বালাবে।
সেদিন কিন্তু
সুইচটা থাকবে
জনতারই হাতে—
বিদ্যুৎ তুমি সাবধান থেকো,
বেশি খেলো না রাতে!
তখন আর
মন্ত্রীপাড়া নয়,
এমপি পাড়া নয়—
আলো যাবে ঘরে ঘরে,
কারেন্ট হবে সবার সমান,
বাংলাদেশের অন্তরে!
লেখক কলামিস্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক গবেষক সরিষাবাড়ি জামালপুর