নিজস্ব প্রতিবেদক
কথা দিয়েছিলে তুমি...
আমার থরথর কাঁপতে থাকা হাতখানি
তোমার দুই হাতের উষ্ণ মন্দিরে রেখে
আকাশের দিকে আঙুল তুলে বলেছিলে—
"এই নীল আকাশ সাক্ষী থাক,
এই সূর্য, এই বাতাস, এই অনন্ত পৃথিবী সাক্ষী থাক—
মৃত্যু যদি দরজায় কড়া নাড়ে, তবুও
আমি তোমার হাত ছাড়বো না।"
সেদিন
পশ্চিমের আকাশ রক্তিম হয়ে উঠেছিল,
হয়তো অস্তগামী সূর্য জানত—
কিছু প্রতিশ্রুতি
সন্ধ্যার রঙের মতোই সুন্দর,
কিন্তু ক্ষণস্থায়ী।
আমি বিশ্বাস করেছিলাম...
যেমন অন্ধ শিশুটি
মায়ের কণ্ঠস্বরকে বিশ্বাস করে,
যেমন শুকিয়ে যাওয়া নদী
বর্ষার প্রথম মেঘকে বিশ্বাস করে,
যেমন মৃত্যুপথযাত্রী মানুষ
শেষ নিঃশ্বাসেও জীবনের আশাকে বিশ্বাস করে—
আমি তেমনি বিশ্বাস করেছিলাম
তোমার প্রতিটি শব্দকে।
তারপর...
ঝড় আসেনি,
বজ্রপাতও হয়নি,
পৃথিবীও ভেঙে পড়েনি।
ভেঙে পড়েছিল
শুধু আমার বুকের ভেতর
তোমার দেওয়া সেই একটিমাত্র প্রতিশ্রুতি।
তুমি হাত ছেড়ে দিলে...
এমন নিঃশব্দে,
যেন শরতের ভোরে
একটি শিশিরবিন্দু
পাতার বুক ছেড়ে হারিয়ে যায়।
আজও আমার হাতের রেখাগুলো
তোমার আঙুলের স্মৃতি খুঁজে বেড়ায়।
আজও মাঝরাতে
আমি আকাশকে প্রশ্ন করি—
"হে অসীম,
তুমি তো সাক্ষী ছিলে!
বলো,
মানুষ কি প্রতিশ্রুতি ভাঙে—
নাকি প্রতিশ্রুতিই একদিন
মানুষকে ছেড়ে চলে যায়?"
কোনো উত্তর আসে না।
শুধু দূরের একটি তারা
নিভে যেতে যেতে বলে—
"যে শপথে ভালোবাসা থাকে না,
সে শপথের আয়ু
একটি শিশিরবিন্দুরও কম।"
আজ আমার হৃদয়
একটি পরিত্যক্ত উপাসনালয়।
সেখানে কোনো প্রার্থনা নেই,
কোনো আরতি নেই,
শুধু প্রতিধ্বনির মতো
বারবার ফিরে আসে তোমার সেই কণ্ঠ—
"আমি কোনোদিন তোমার হাত ছাড়বো না..."
কী আশ্চর্য!
তুমি হাত ছেড়েছ বহু আগে,
কিন্তু আমি আজও
শূন্য মুঠো আঁকড়ে বেঁচে আছি।
কারণ...
মানুষ ভালোবাসা হারিয়ে একবার কাঁদে,
কিন্তু ভাঙা প্রতিশ্রুতি
প্রতিদিন, প্রতিরাত,
প্রতিটি নিঃশ্বাসে
নতুন করে মানুষকে কবর দেয়।
তাই যদি কোনোদিন
আমার শেষযাত্রায়
আবার তোমার সঙ্গে দেখা হয়—
আমার হাতটি আর ধরো না...
শুধু একবার
আকাশের দিকে তাকিয়ে বলো—
"ক্ষমা করো...
আমি আকাশকে নয়,
তোমাকেই মিথ্যে বলেছিলাম।"
হয়তো সেদিন
আমার কবরের মাটিতেও
এক ফোঁটা বৃষ্টি নেমে আসবে—
আর মানুষ বলবে,
"এটা বৃষ্টি নয়,
ভেঙে যাওয়া একটি প্রতিশ্রুতির
শেষ কান্না।
লেখক কলামিস্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক গবেষক সরিষাবাড়ি জামালপুর