নিজস্ব প্রতিবেদক
মানুষ জন্ম নেয়, বড় হয়, স্বপ্ন দেখে, ভালোবাসে, সংগ্রাম করে—তারপর একদিন নীরবে চলে যায়। এই যাওয়া যেন অনিবার্য, অবধারিত। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সত্য—মৃত্যু। কেউ তাকে এড়িয়ে যেতে পারেনি, পারবেও না। রাজা হোক কিংবা পথের ভিখারি—সবাইকে একদিন এই সত্যের সামনে দাঁড়াতেই হবে।
আমরা প্রতিদিন কত স্বপ্ন বুনি! এই বাড়ি, এই গাড়ি, এই অর্থ, এই ক্ষমতা—সবকিছুর জন্য কত দৌড়ঝাঁপ। কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখি, এই সবই একদিন ফেলে রেখে চলে যেতে হবে? যেগুলোকে আমরা নিজের বলে আঁকড়ে ধরি, সেগুলোর কোনোটাই আমাদের সাথে যাবে না।
এই দুনিয়া ঠিক মরুভূমির সেই মায়ামরীচিকার মতো। দূর থেকে মনে হয়, এখানে আছে জল, আছে প্রশান্তি। কিন্তু কাছে গেলে বোঝা যায়—সবই মরীচিকা, সবই ভ্রম। আমরা সেই মরীচিকার পেছনে দৌড়াতে দৌড়াতে ক্লান্ত হয়ে পড়ি, অথচ সত্যিকারের গন্তব্য ভুলে যাই।
মানুষ আজ এত ব্যস্ত যে, নিজের অস্তিত্ব নিয়েই ভাবার সময় নেই। সকাল থেকে রাত—কেবল দৌড় আর দৌড়। কিন্তু এই দৌড়ের শেষ কোথায়? সেই শেষ হলো—এক মুঠো মাটি। সেই মাটির নিচেই শেষ হয়ে যায় সব অহংকার, সব পরিচয়, সব অর্জন।
কবরের নীরবতা আমাদের জন্য এক বড় শিক্ষা। সেখানে নেই কোনো পদবী, নেই কোনো ক্ষমতা, নেই কোনো প্রতিযোগিতা। সেখানে সবাই সমান। এই সমতার কথা আমরা জীবিত অবস্থায় ভুলে যাই।
আমরা ভুলে যাই—এই জীবনটা একটি পরীক্ষা। এখানে যা কিছু করি, তারই হিসাব একদিন দিতে হবে। তাই এই ক্ষণস্থায়ী দুনিয়ার মোহে পড়ে আমরা যদি অন্যায় করি, মানুষের অধিকার হরণ করি, অন্যের কষ্টের কারণ হই—তাহলে সেই হিসাব থেকে মুক্তি নেই।
একটু থেমে ভাবুন—আপনি কী রেখে যাচ্ছেন? আপনার কাজ, আপনার ব্যবহার, আপনার ভালোবাসা—এসবই আপনার প্রকৃত পরিচয়। অর্থ বা সম্পদ নয়, মানুষ আপনাকে মনে রাখবে আপনার মানবিকতার জন্য।
মৃত্যুকে ভয় নয়, বরং মনে রাখা উচিত। কারণ মৃত্যুর স্মরণই মানুষকে সৎ পথে চলতে সাহায্য করে। যে মানুষ মৃত্যুকে মনে রাখে, সে কখনো অন্যায় করতে পারে না।
তাই আসুন, এই মায়ার দুনিয়ায় থেকেও আমরা সত্যকে ভুলে না যাই। ভালো কাজ করি, মানুষের পাশে দাঁড়াই, ভালোবাসা ছড়িয়ে দিই। কারণ এই ভালোবাসা, এই সৎ কাজই একমাত্র সম্পদ—যা মৃত্যুর পরও আমাদের সাথে থাকবে।
শেষে একটি কথা—
“এই দুনিয়া ক্ষণিকের, কিন্তু মৃত্যুর পরের জীবন অনন্ত।”
তাই প্রস্তুত হোন, নিজেকে গড়ে তুলুন, সত্যের পথে চলুন। ইহকালে কষ্ট হলেও পরকালে শান্তি পাওয়ার আশা করতে পারবেন ইনশাআল্লাহ।