নিজস্ব প্রতিবেদক
আমি যমুনা পারের মানুষ—
আমার পরিচয় নদীর জলে লেখা,
আমার শেকড় কাদামাটির গভীরে গাঁথা।
জন্মের প্রথম কান্না
মিশে গেছে ঢেউয়ের কোলাহলে,
প্রথম হাঁটতে শেখা
নদীপাড়ের নরম বালুচরে।
আমি দেখেছি যমুনার ভালোবাসা—
ভোরের কুয়াশায় জেলেদের স্বপ্ন,
কাশবনের সাদা ফুলে শরতের চিঠি,
পালতোলা নৌকার বুকে
ভাটিয়ালি গানের দীর্ঘশ্বাস।
আবার দেখেছি তার রুদ্ররূপ—
এক রাতের উন্মত্ত স্রোতে
ভেসে গেছে শত বছরের সংসার,
মায়ের আঁচল, শিশুর হাসি,
বৃদ্ধের শেষ আশ্রয়।
যমুনা কখনো মমতাময়ী মা,
কখনো সে সময়ের নিষ্ঠুর বিচারক।
এক হাতে দেয় সোনালি ধানের হাসি,
অন্য হাতে কেড়ে নেয়
ঘর, জমি, স্মৃতি আর ভবিষ্যৎ।
তবু মানুষ তাকে ছেড়ে যায় না—
মায়ের ওপর কি কেউ অভিমান ধরে রাখতে পারে?
আমি যমুনায় হারিয়েছি
অনেক অপ্রকাশিত স্বপ্ন,
অনেক আপনজনের পদচিহ্ন,
অনেক অসমাপ্ত ভালোবাসা।
তবু যমুনাই আমাকে শিখিয়েছে—
ভাঙন মানেই পরাজয় নয়,
চর জাগার মতো
মানুষও আবার নতুন ভোরের অপেক্ষায় বাঁচে।
আমার কবিতার প্রতিটি শব্দ
যমুনার ঢেউ থেকে ধার করা,
আমার প্রতিটি উপমা
চরের ঘাসে জমে থাকা শিশিরবিন্দু।
আমার দীর্ঘশ্বাসে
নদীর জোয়ারের গন্ধ,
আমার নীরবতায়
ভাঙনপাড়ের কান্না।
যমুনা আমার কাছে
শুধু একটি নদী নয়—
সে আমার মা,
আমার প্রেম,
আমার ইতিহাস,
আমার সংগ্রাম,
আমার বেঁচে থাকার প্রতিজ্ঞা।
যেদিন আমি পৃথিবী ছেড়ে চলে যাব,
হয়তো কোনো এক বিকেলে
যমুনার বাতাস আমার নাম ধরে ডাকবে।
কাশফুল মাথা নত করবে,
ঢেউ এসে ছুঁয়ে যাবে আমার স্মৃতি।
আর কোনো এক অচেনা কবি বলবে—
"এই মানুষটি যমুনাকে শুধু দেখেনি,
যমুনার মতোই গভীর হয়ে বেঁচেছিল।
তার হৃদয়ে ছিল নদীর স্রোত,
আর তার কবিতায় ছিল
একটি জনপদের কান্না, প্রেম ও অনন্ত জীবন।
লেখক কলামিস্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক গবেষক সরিষাবাড়ি জামালপুর