নিজস্ব প্রতিবেদক
আমিও মানবতা বিসর্জন দিতে চাই—
আর কতকাল নিজের রক্তে
অন্যের বিবেক ধুয়ে দেব?
আমি তো চেয়েছিলাম
নিজেকে বিলিয়ে দিয়ে
একটি মানুষভরা পৃথিবী গড়তে।
কিন্তু দেখলাম—
এখানে মানুষ নয়,
মুখোশেরই রাজত্ব।
আমার হাসি বন্ধক রেখে
অন্যের চোখে স্বপ্ন এঁকেছি,
নিজের ক্ষুধা লুকিয়ে
অন্যের থালা ভরেছি,
নিজের কান্না গোপন করে
অন্যের দুঃখে কেঁদেছি।
তবুও শেষে শুনলাম—
"তুমি যথেষ্ট নও!"
কী ভয়ংকর এই সময়!
এখানে সততা পরাজিত হয়,
স্বার্থ জয়ী হয়।
এখানে ভালোবাসা বিক্রি হয়,
মানবতা নিলামে ওঠে,
আর বিবেক—
নিঃশব্দে আত্মহত্যা করে।
আমি যখনই মানুষ হতে চেয়েছি,
মানুষই আমাকে পাথর ছুড়ে মেরেছে।
আমি যখনই ক্ষমা করেছি,
তখনই বিশ্বাসঘাতকতার ছুরি
আরও গভীরে ঢুকে গেছে।
আজ সেই মানবতাও
আমাকে ধিক্কার দিয়ে বলে—
"ভুল করেছো, মিলু!
নেকড়ের ভিড়ে
মানুষ হয়ে বাঁচতে নেই।"
তাই আমিও মানবতা বিসর্জন দিতে চাই—
কারণ এই সভ্যতার আয়নায়
মানুষের মুখ আর দেখি না,
দেখি শুধু লোভের দাঁত,
স্বার্থের থাবা,
আর বিবেকহীন হাসি।
তবু মৃত্যুর আগে
একটি প্রশ্ন রেখে যাব—
যেদিন শেষ মানুষটিও
মানবতা বিসর্জন দেবে,
সেদিন এই পৃথিবীকে
মানুষের পৃথিবী বলে
ডাকবে কে?
লেখক কলামিস্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক গবেষক সরিষাবাড়ি জামালপুর