নিজস্ব প্রতিবেদক
আমাদের সমাজ, আমাদের দেশ—একটি সুন্দর ভবিষ্যতের স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবতা প্রায়ই সেই স্বপ্নকে ম্লান করে দেয়। আজ আমরা এমন এক বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছি, যেখানে রাজনীতির নামে প্রতি হিংসা, প্রতিশোধ আর ক্ষমতার লড়াই সাধারণ মানুষের জীবনকে করে তুলছে অনিশ্চিত, ভীতিকর এবং দুঃসহ।
রাজনীতি হওয়ার কথা ছিল মানুষের সেবা করার একটি মহৎ মাধ্যম। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, অনেক ক্ষেত্রে তা এখন পরিণত হয়েছে ব্যক্তিগত স্বার্থ রক্ষা, প্রতিপক্ষকে দমন এবং ক্ষমতা ধরে রাখার এক নিষ্ঠুর খেলা। এই খেলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় সাধারণ জনগণ—যারা কোনো পক্ষের নয়, শুধু শান্তিতে বাঁচতে চায়।
প্রতি হিংসার রাজনীতি যখন চরমে ওঠে, তখন রাস্তায় নামে সহিংসতা। ভাঙচুর হয় দোকানপাট, আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায় নিরীহ মানুষের জীবনের সঞ্চয়। স্কুলগামী শিশুদের চোখে ভয়, কর্মজীবী মানুষের মনে অনিশ্চয়তা—আজ কাজ থাকবে তো? নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারব তো? এই প্রশ্নগুলো প্রতিদিন তাড়া করে সাধারণ মানুষকে।
রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে যখন সংঘর্ষ শুরু হয়, তখন সেটি আর শুধু দুই দলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। তা ছড়িয়ে পড়ে সমাজের প্রতিটি স্তরে। প্রতিবেশী হয়ে ওঠে প্রতিপক্ষ, বন্ধু হয়ে যায় শত্রু। সামাজিক বন্ধন দুর্বল হয়ে পড়ে, বিশ্বাস হারিয়ে যায়। এর ফলে একটি জাতি ধীরে ধীরে তার মানবিকতা হারাতে শুরু করে।
সবচেয়ে বড় কথা, এই প্রতি হিংসার রাজনীতিতে মানুষের জীবন যেন তুচ্ছ হয়ে যায়। একটি প্রাণ হারানো যেন শুধু একটি সংখ্যায় পরিণত হয়। সংবাদ শিরোনামে আসে, আবার হারিয়েও যায়। কিন্তু সেই প্রাণের পেছনে যে একটি পরিবার ছিল, যে স্বপ্ন ছিল, তা আর কেউ দেখে না।
আমাদের মনে রাখতে হবে—রাজনীতি মানুষের জন্য, মানুষ রাজনীতির জন্য নয়। ক্ষমতা কোনো ব্যক্তির চিরস্থায়ী সম্পদ নয়, এটি একটি দায়িত্ব। এই দায়িত্ব পালন করতে হলে দরকার সহনশীলতা, পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধা এবং সংলাপের সংস্কৃতি।
সমস্যার সমাধান সহিংসতায় নয়, বরং আলোচনায়। মতভেদ থাকতেই পারে, সেটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। কিন্তু সেই মতভেদ যদি ঘৃণা আর প্রতিশোধে রূপ নেয়, তাহলে তা শুধু ধ্বংস ডেকে আনে।
আজ সময় এসেছে আমাদের সচেতন হওয়ার। শুধু নেতাদের নয়, সাধারণ মানুষেরও দায়িত্ব রয়েছে। আমাদের উচিত ঘৃণার রাজনীতি প্রত্যাখ্যান করা, শান্তি এবং সহাবস্থানের পক্ষে দাঁড়ানো। সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষা করা আমাদের সবার কর্তব্য।
আমরা যদি সত্যিই একটি সুন্দর, শান্তিপূর্ণ এবং উন্নত সমাজ গড়তে চাই, তাহলে আমাদের প্রতি হিংসার রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। ভালোবাসা, সহমর্মিতা এবং ন্যায়বিচারের পথে হাঁটতে হবে।
কারণ শেষ পর্যন্ত, একটি দেশের প্রকৃত শক্তি তার জনগণ। আর সেই জনগণ যদি পদপিষ্ট হয়, তাহলে কোনো উন্নয়ন, কোনো অগ্রগতি সত্যিকার অর্থে সম্ভব নয়।
তাই আসুন, আমরা সবাই মিলে একটি বার্তা দিই—আমরা প্রতি হিংসা চাই না, আমরা চাই শান্তি, আমরা চাই মানবিকতা, আমরা চাই একটি নিরাপদ আগামী।একটি শান্তি পুর্ন সমাজ যেখানে থাকবে না কোন হিংসা বিদ্বেষ।