নিজস্ব প্রতিবেদক
কেমন হতো যদি—
আর কোনো অন্যায় না হতো!
ক্ষমতার বুটের নিচে
সত্যের আর্তনাদ চাপা না পড়তো,
বিবেক বিক্রি হতো না
মুঠোভর্তি টাকার কাছে।
কেমন হতো যদি—
আর কোনো ধর্ষণ না হতো!
প্রতিটি কন্যাশিশু
মায়ের দোয়া আর বাবার আশীর্বাদ বুকে নিয়ে
নির্ভয়ে ফিরতে পারতো
দিনের আলো কিংবা গভীর রাত পেরিয়ে।
কেমন হতো যদি—
প্রতিটি মানুষ ন্যায্য বিচার পেতো!
অপরাধীর পরিচয় নয়,
অপরাধই হতো বিচারের একমাত্র মানদণ্ড;
আইনের পাল্লা ঝুঁকতো না
ক্ষমতা কিংবা অর্থের ভারে।
কেমন হতো যদি—
আর কোনো দুর্নীতি না হতো!
ঘুষের নোংরা হাত
রাষ্ট্রের শিরায় শিরায় বিষ ঢালতে না পারতো,
সততার ঘামেই
গড়ে উঠতো আগামীর বাংলাদেশ।
কেমন হতো যদি—
কোনো শিশুকে ক্ষুধা নিয়ে ঘুমাতে না হতো!
ভাতের অভাবে
কেউ বই ছেড়ে ইটভাটায় নামতো না,
স্বপ্নগুলো বিকিয়ে যেত না
দারিদ্র্যের হাটে।
কেমন হতো যদি—
ধর্ম হতো ভালোবাসার,
মানবতা হতো পরিচয়ের,
ঘৃণার দেয়াল ভেঙে
সবাই একে অপরকে
মানুষ বলেই আপন করে নিতো।
কেমন হতো যদি—
রাজনীতি মানেই হতো মানুষের সেবা!
মিথ্যার মঞ্চে নয়,
সত্যের আলোয় দাঁড়িয়ে
নেতারা শপথ নিতেন
দেশকে ভালোবাসার।
কেমন হতো যদি—
মা হারাতো না সন্তান,
সন্তান হারাতো না বাবা,
অবহেলায়, সহিংসতায়,
অথবা অবিচারের অন্ধকারে।
কেমন হতো যদি—
এই বাংলার প্রতিটি ভোর
শান্তির আজান, মন্দিরের ঘণ্টা,
পাখির গান আর মানুষের হাসিতে জেগে উঠতো;
প্রতিটি রাত
নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে যেত।
কেমন হতো যদি—
মানুষ মানুষকে ঠকাতো না,
ভালোবাসা বিশ্বাসঘাতকতার কাছে হার মানতো না,
বিবেক প্রতিদিন
নিজের কাছেই লজ্জিত না হতো।
কেমন হতো যদি—
এই পৃথিবীতে
কান্নার চেয়ে হাসি বেশি হতো,
ঘৃণার চেয়ে ভালোবাসা বড় হতো,
আর মানুষ হওয়াটাই
হতো সবচেয়ে বড় পরিচয়।
সেদিন হয়তো—
স্বর্গ খুঁজতে আকাশের দিকে তাকাতে হতো না;
মানুষের হৃদয়েই ফুটে উঠতো
একটি ন্যায়, শান্তি আর ভালোবাসার পৃথিবী।
লেখক কলামিস্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক গবেষক সরিষাবাড়ি জামালপুর