নিজস্ব প্রতিবেদক
মাদকবিরোধী অভিযানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসামি গ্রেপ্তার করছেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো, শুধু গ্রেপ্তার করলেই কি অপরাধ দমন সম্ভব? বাস্তবতা বলছে—না। যদি গ্রেপ্তারের পর বিচারিক প্রক্রিয়া দীর্ঘসূত্রতায় ভোগে, তদন্ত দুর্বল হয়, সাক্ষ্য-প্রমাণ যথাযথভাবে উপস্থাপন করা না যায়, কিংবা আইনের ফাঁকফোকর ব্যবহার করে অপরাধীরা দ্রুত জামিনে মুক্ত হয়ে যায়, তাহলে গ্রেপ্তারের কার্যকারিতা অনেকটাই কমে যায়।
তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, জামিন কোনো অপরাধীকে নির্দোষ ঘোষণা করে না। জামিন বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত আইনি অধিকার হিসেবে দেওয়া হতে পারে। কিন্তু যদি বারবার দেখা যায় যে একই ব্যক্তি জামিনে বের হয়ে পুনরায় অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে, তাহলে আইন ও বিচার প্রক্রিয়ার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এ ক্ষেত্রে তদন্তের মান উন্নয়ন, দ্রুত বিচার এবং পুনরাবৃত্ত অপরাধীদের ক্ষেত্রে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।
আরও একটি উদ্বেগের বিষয় হলো, দীর্ঘদিন একই অপরাধীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ের যোগাযোগের ফলে কোনো কোনো ক্ষেত্রে অনাকাঙ্ক্ষিত সম্পর্ক বা প্রভাবের অভিযোগ ওঠে। যদিও এ ধরনের অভিযোগ প্রমাণসাপেক্ষ, তবুও স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। অপরাধ দমনে যারা কাজ করেন, তাদের সততা ও পেশাদারিত্বের ওপর জনগণের আস্থা টিকে থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সুতরাং, অপরাধ দমনের জন্য শুধু অভিযান চালিয়ে আসামি ধরাই যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন শক্তিশালী তদন্ত, কার্যকর আইন, দ্রুত বিচার, সাক্ষী সুরক্ষা এবং আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ। কারণ অপরাধী যদি নিশ্চিত থাকে যে গ্রেপ্তারের পরও সহজেই আইনের ফাঁক গলে বেরিয়ে আসতে পারবে, তাহলে অপরাধের ভয় কমে যায়। আর যখন শাস্তির নিশ্চয়তা দুর্বল হয়ে পড়ে, তখন অপরাধ দমনের চেয়ে অপরাধের পুনরাবৃত্তির ঝুঁকিই বেড়ে যায়।
রাষ্ট্রের লক্ষ্য হওয়া উচিত—এমন একটি বিচারব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে নির্দোষ ব্যক্তি হয়রানির শিকার হবে না, আবার প্রকৃত অপরাধীও আইনের হাত থেকে রেহাই পাবে না। তখনই মাদকসহ সব ধরনের অপরাধ দমনে স্থায়ী সাফল্য অর্জন সম্ভব হবে।
লেখক কলামিস্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক গবেষক সরিষাবাড়ি জামালপুর