প্রদীপ চন্দ্র মম
ক্ষমতার উঠোনে আজ
সবচেয়ে বেশি ভিড় সত্যের নয়,
ভিড় চাটুকারের;
যারা করতালির শব্দে ঢেকে দেয়
মানুষের আর্তনাদ।
দালালরা আজকাল আয়না বিক্রি করে,
কিন্তু সেখানে মুখ দেখা যায় না—
দেখা যায় শুধু স্বার্থের বিকৃত প্রতিচ্ছবি।
ভূমিখেকোরা মানচিত্র খায়,
দুর্নীতিবাজরা ভবিষ্যৎ খায়,
আর তোষামোদকারীরা
নেতার চারপাশে এমন দেয়াল তোলে
যেখানে কান্না পৌঁছায় না,
কিন্তু প্রশংসা পৌঁছে যায় মুহূর্তে।
কৃষকের কপালের ঘাম
শুকিয়ে যায় ফাইলের নিচে,
শ্রমিকের রক্ত মিশে যায়
উন্নয়নের রঙিন ব্যানারে;
বেকারের দীর্ঘশ্বাস উড়ে বেড়ায়
প্রতিশ্রুতির আকাশে ছেঁড়া ঘুড়ির মতো।
এখানে সেবার ভাষণ যত দীর্ঘ,
মানুষের অধিকার তত সংক্ষিপ্ত;
এখানে নীতির গল্প যত বেশি,
নীতিহীনতার সাম্রাজ্য তত বিস্তৃত।
মানুষ ভোট দেয় স্বপ্নে,
আর স্বার্থের কারবারিরা
সেই স্বপ্ন ক্ষমতার হাটে নিলামে তোলে;
জনতার বিশ্বাসকে ভেঙে বানায়
নিজেদের প্রাসাদের ভিত্তি।
ক্ষমতার করিডোরে আজ
বিবেক নির্বাসিত,
সততা অভিযুক্ত,
সত্য সন্দেহভাজন।
তবু ইতিহাসের এক অদ্ভুত অভ্যাস আছে—
সে দালালের নাম মনে রাখে না,
চাটুকারের মুখও না;
সে শুধু মনে রাখে
কারা মানুষের কান্না শুনেছিল,
আর কারা করতালির নেশায় বধির হয়েছিল।
মনে রেখো—
শকুন আকাশ দখল করতে পারে,
আকাশের মালিক হতে পারে না;
দালাল মসনদের পাশে বসতে পারে,
ইতিহাসের পাশে নয়।
যেদিন জমে থাকা ক্ষোভ
বজ্রের মতো নেমে আসবে,
যেদিন নীরব মানুষ কথা বলবে,
সেদিন পতাকা নয়, পদ নয়, পরিচয় নয়—
বিচার করবে জনগণ।
কারণ রাষ্ট্রের সবচেয়ে ভয়ংকর শত্রু
সীমান্তের ওপারে নয়,
রাষ্ট্রের সবচেয়ে ভয়ংকর শত্রু
সেই মুখোশধারী স্বার্থান্বেষী,
যারা মানুষের কাঁধে দাঁড়িয়ে ক্ষমতায় ওঠে,
তারপর মানুষের দুঃখকেই
নিজেদের উৎসবে পরিণত করে।
২২/০৬/২০২৬ খ্রিঃ।