নিজস্ব প্রতিবেদক
যুব সমাজ আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে—এই কথাটি শুধু আবেগের প্রকাশ নয়, বরং বাস্তবতার এক কঠিন প্রতিফলন। আমাদের চারপাশে তাকালেই দেখা যায়, তরুণদের একটি বড় অংশ নেশা, হতাশা, বেকারত্ব ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের দিকে ঝুঁকে পড়ছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে—এর জন্য দায়ী কে? সমাজ, পরিবার, রাজনীতি, নাকি বেকার সমস্যা?
প্রথমত, পরিবার হলো একজন মানুষের জীবনের প্রথম বিদ্যালয়। একটি শিশুর চরিত্র গঠন, মূল্যবোধ এবং নৈতিক শিক্ষা শুরু হয় পরিবার থেকেই। কিন্তু বর্তমান সময়ে অনেক পরিবারেই সন্তানের প্রতি সঠিক নজরদারি ও দিকনির্দেশনার অভাব দেখা যায়। বাবা-মা নিজেদের কর্মব্যস্ততায় এতটাই নিমগ্ন থাকেন যে, সন্তান কী করছে, কার সাথে মিশছে—এসব বিষয়ে সচেতন থাকার সময় পান না। ফলে সন্তান ভুল পথে চলে গেলেও তা অনেক সময় দৃষ্টির আড়ালেই থেকে যায়। তাই বলা যায়, পরিবারের অবহেলা যুব সমাজের বিপথগামিতার একটি বড় কারণ।
দ্বিতীয়ত, সমাজের ভূমিকাও এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি সুস্থ সমাজ তরুণদের জন্য ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করে, যেখানে তারা সৃজনশীল কাজে নিজেকে যুক্ত করতে পারে। কিন্তু যখন সমাজে মাদক, অপরাধ, অসৎ প্রভাব এবং নেতিবাচক সংস্কৃতি বিস্তার লাভ করে, তখন তরুণরা সহজেই এসবের প্রতি আকৃষ্ট হয়। সমাজ যদি ভালোকে উৎসাহ না দেয় এবং খারাপের বিরুদ্ধে অবস্থান না নেয়, তবে যুব সমাজ ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাবে—এটাই স্বাভাবিক।
তৃতীয়ত, রাজনৈতিক প্রভাবও এই সমস্যার একটি বড় অংশ। অনেক সময় দেখা যায়, রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়। কিছু অসাধু ব্যক্তি তরুণদের ব্যবহার করে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করে। এতে তরুণরা ভুল পথে জড়িয়ে পড়ে এবং একসময় অপরাধ জগতের অংশ হয়ে যায়। যদি রাজনীতি সৎ ও নৈতিকতার ভিত্তিতে পরিচালিত না হয়, তবে তা যুব সমাজের জন্য আশীর্বাদ নয়, বরং অভিশাপ হয়ে দাঁড়ায়।
সবশেষে, বেকারত্ব বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি। শিক্ষিত হয়েও অনেক তরুণ যখন চাকরি পায় না, তখন তারা হতাশ হয়ে পড়ে। এই হতাশা থেকেই অনেকেই নেশা, অপরাধ কিংবা অনৈতিক পথে পা বাড়ায়। কাজের অভাব মানুষকে শুধু অর্থনৈতিকভাবে নয়, মানসিকভাবেও দুর্বল করে দেয়। তাই কর্মসংস্থানের অভাব যুব সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ।
সবকিছু বিবেচনায় বলা যায়, যুব সমাজের এই অবনতির জন্য কোনো একক পক্ষ দায়ী নয়। পরিবার, সমাজ, রাজনীতি এবং বেকার সমস্যা—সবকিছু মিলেই এই সংকট তৈরি করেছে। তাই এর সমাধানও হতে হবে সমন্বিতভাবে। পরিবারকে হতে হবে সচেতন, সমাজকে হতে হবে দায়িত্বশীল, রাজনীতিকে হতে হবে স্বচ্ছ ও নৈতিক, এবং সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান।
যুব সমাজই একটি দেশের ভবিষ্যৎ। তাদেরকে ধ্বংসের পথে না ঠেলে, সঠিক দিকনির্দেশনা দিয়ে গড়ে তুলতে পারলেই একটি সুন্দর, সমৃদ্ধ ও উন্নত জাতি গঠন সম্ভব।