নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশজুড়ে মাদকের বিস্তার যেন এক অদৃশ্য মহামারী। আর এই ভয়াবহ পরিস্থিতির পেছনে উঠে আসছে এক উদ্বেগজনক অভিযোগ—রাজনৈতিক প্রভাবেই চলছে মাদকের জমজমাট ব্যবসা, আর এতে অনেকটাই অসহায় হয়ে পড়েছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা।
মাঠ পর্যায়ের অনুসন্ধানে দেখা যায়, বিভিন্ন এলাকায় প্রভাবশালী কিছু ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর ছত্রছায়ায় অবাধে চলছে মাদক বাণিজ্য। স্থানীয়দের অভিযোগ, যারা এই ব্যবসার সাথে জড়িত, তাদের অনেকেই রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে নিজেদের নিরাপদ রাখছে। ফলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী চাইলেও অনেক ক্ষেত্রে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারছে না।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “আমরা প্রতিদিনই দেখি কারা মাদক বিক্রি করছে। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে কেউ কথা বলতে সাহস পায় না। কারণ তারা প্রভাবশালী।” এমন পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের মধ্যে তৈরি হচ্ছে ভীতি ও অসহায়ত্বের অনুভূতি।
আইন প্রয়োগকারী সংস্থার একাধিক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, অনেক সময় অভিযান পরিচালনার আগে বা পরে রাজনৈতিক চাপ আসে। এতে করে অভিযানের গতি কমে যায়, এমনকি অনেক ক্ষেত্রে অভিযুক্তরা পার পেয়ে যায়। ফলে মাদকের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ হয়ে পড়ছে অনেকটাই একপাক্ষিক।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাদক সমস্যা শুধু আইনশৃঙ্খলার বিষয় নয়, এটি একটি সামাজিক ও রাজনৈতিক সংকটও বটে। যখন অপরাধীরা রাজনৈতিক ছত্রছায়া পায়, তখন আইনের শাসন দুর্বল হয়ে পড়ে। এতে করে নতুন প্রজন্ম সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তারা ধীরে ধীরে জড়িয়ে পড়ে নেশার অন্ধকার জগতে।
এদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। নিয়মিত অভিযানও পরিচালিত হচ্ছে দেশের বিভিন্ন স্থানে। তবে বাস্তবতা হলো, এই অভিযান তখনই সফল হবে, যখন সব ধরনের প্রভাবমুক্ত হয়ে আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করা যাবে।
সচেতন মহল মনে করছে, মাদক নির্মূলে শুধু আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ওপর নির্ভর করলে হবে না। রাজনৈতিক সদিচ্ছা, সামাজিক প্রতিরোধ এবং পারিবারিক সচেতনতা—সবকিছুর সমন্বয় প্রয়োজন। একই সঙ্গে যারা মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ও নিরপেক্ষ ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।

মাদকের এই ভয়াবহ বিস্তার রোধে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে। তাই সময় এসেছে—দোষীদের পরিচয় নয়, অপরাধকে বড় করে দেখে আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করা। পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করি মাদক মুক্ত সমাজ গড়ে তুলি।