নিজস্ব প্রতিবেদক
নদী, তোমাকে নিয়ে লিখেছি কত গল্প, কত কবিতা, তোমার ঢেউয়ের সুরে বেঁধেছি বিরহের গোপন গাথা। ভেবেছি তুমি মায়ের মতো আগলে রাখবে তীরের মানুষ, তোমার বুকেই খুঁজে নেবো জীবনের শান্তি আর ভালোবাসা।
তোমার জলে ভাসিয়েছি কত স্বপ্নের কাগজের নৌকা, কত আশা ছুঁড়ে দিয়েছি স্রোতের হাতে বিশ্বাস করে। কিন্তু তুমি একদিন নিষ্ঠুর হলে হঠাৎ, ভিটেমাটি কেড়ে নিলে মায়ার কথা বলে।
যে উঠোনে শিশুরা খেলত বসতো হাসির মেলা, যে ঘরে মায়ের আঁচলে জড়াতো সংসারের সুখ, সেই ঘর আজ তোমার অতলে হারিয়ে গেছে, আর তীরে পড়ে আছে কান্না, দীর্ঘশ্বাস আর দুঃখ।
নদী, তোমার ক্ষুধা কি কখনো মেটে না? কত স্বপ্ন গিলেছো, কত ইতিহাস করেছো গ্রাস। কত মানুষ আজ পথের ভিখারি তোমার কারণে, কত চোখে জমেছে অশ্রুর নোনাজল আর হতাশ।
তবুও তোমাকে ঘৃণা করতে পারি না আমি, তোমার বুকেই তো শিখেছি জীবনের প্রথম গান। তাই ভাঙনের মাঝেও তোমার পানে চেয়ে থাকি, হয়তো ফিরবে আবার তোমার হারানো মমতার প্রাণ।
কিন্তু যতদিন তুমি ক্ষুধার্ত স্রোতের মতো গিলে খাবে মানুষের স্বপ্ন, ঘর আর ঠিকানা, ততদিন তীরের বাতাসে ভেসে বেড়াবে গৃহহারা মানুষের আর্তনাদ আর না বলা বেদনা।
লেখক কলামিস্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক গবেষক সরিষাবাড়ি জামালপুর