রুহুল আমিন, নওগাঁ প্রতিনিধি :
নওগাঁর রানীনগর উপজেলায় হঠাৎ করেই বেড়েছে বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রব। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কুকুরের আক্রমণে প্রতিদিনই আহত হচ্ছেন শিশু, নারী ও বয়স্ক মানুষ। বিশেষ করে রাজাপুর, বাহাদুরপুর ও আশপাশের এলাকায় পরিস্থিতি উদ্বেগজনক আকার ধারণ করেছে। কুকুরের আতঙ্কে অনেক পরিবার তাদের শিশুদের একা বাইরে যেতে দিচ্ছেন না।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রানীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিদিন গড়ে ৫ থেকে ৮ জন কুকুরে কামড়ানো রোগী চিকিৎসা নিতে আসছেন। চলতি বছরের প্রথম দুই সপ্তাহেই প্রায় ২০ থেকে ২৫ জন আহত ব্যক্তি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। বৃহস্পতিবারও উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে অন্তত চারজন কুকুরে আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, রানীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের সামনেই কয়েকটি বেওয়ারিশ কুকুর অবস্থান করছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, যেখানে মানুষ চিকিৎসা নিতে আসে, সেই হাসপাতাল চত্বরই যদি কুকুরের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হয়ে ওঠে, তাহলে সাধারণ মানুষ কোথায় নিরাপদ থাকবে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, উপজেলার বিভিন্ন সড়ক, রেল স্টেশন, অলিগলি, স্কুলসংলগ্ন এলাকা, পুকুরপাড় ও বাজার এলাকায় দলবদ্ধভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছে বেওয়ারিশ কুকুর। সন্ধ্যার পর এদের উপদ্রব আরও বেড়ে যায়। পথচারী, সাইকেল ও মোটরসাইকেল আরোহীদের ধাওয়া দেওয়ার ঘটনাও ঘটছে নিয়মিত।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি বলেন, এমনিতে আমাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নামে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতি রয়েছে। এখানকার ডাক্তাররা ঠিকমতো রোগীদের সেবা দিতে ব্যর্থ। প্রয়োজনীয় সরঞ্জামও নেই বললেই চলে। বড় বড় ডাক্তাররা ঠিক মতন হাসপাতালে বসেন না। অতিরিক্ত টাকার লোভে নওগাঁ সদরে গিয়ে বিভিন্ন ক্লিনিকে তারা রোগী দেখেন। আর সে কারণেই আমরা তাদের সেবা থেকে বঞ্চিত হই। কেননা কোন রোগীর ছোট কোন সমস্যা হলেও নওগাঁ সদর হাসপাতালে রেফার্ড করে দিয়ে তারা দায়সারা হয়ে থাকেন।
রাজাপুর এলাকার বাসিন্দা আব্দুল কুদ্দুস জানান, বিকেলে হাঁটার সময় হঠাৎ একটি কুকুর পেছন থেকে এসে তার পায়ে কামড় দেয়। অন্যদিকে স্থানীয় যুবক মো. জনি ইসলাম বলেন, গত সপ্তাহে তাদের এলাকায় একদিনেই অন্তত ৬ জনকে কুকুর কামড় দিয়েছে, যাদের মধ্যে কয়েকজন শিশু ছিল।
এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ইকবাল হোসেন বলেন, কুকুরের উপদ্রবে আমরা চরম আতঙ্কের মধ্যে আছি। বিশেষ করে শিশু ও শিক্ষার্থীরা ভয়ে একা বাইরে বের হতে পারছে না। সন্ধ্যার পর রাস্তায় চলাচল করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
রানীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. ইমতিয়াজ মাহমুদ বলেন, বর্তমানে প্রতিদিনই কুকুরে কামড়ানো রোগী আসছেন। আগে কুকুর নিধন কর্মসূচি থাকলেও আদালতের নির্দেশনার কারণে তা বন্ধ রয়েছে। তবে আক্রান্তদের প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন দেওয়া হচ্ছে এবং কাউকে ফেরত যেতে হচ্ছে না।
এদিকে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ডা. ইফতেখার আলমের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত বেওয়ারিশ কুকুর নিয়ন্ত্রণ, টিকাদান ও জনসচেতনতা কার্যক্রম চালু না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে। প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
রুহুল আমিন
নওগাঁ প্রতিনিধি।
০৮/০৫/২০২৬