নিজস্ব প্রতিবেদক
নেতাকে ভালোবাসা দোষের কিছু নয়। একজন মানুষ তার আদর্শ, সংগ্রাম কিংবা নেতৃত্বগুণে অনুসারীদের হৃদয়ে জায়গা করে নিতেই পারেন। কিন্তু সমস্যা তখনই শুরু হয়, যখন সেই ভালোবাসা অন্ধ আনুগত্যে পরিণত হয়। যখন একজন কর্মী বা সমর্থক শুধু প্রশংসা করতেই শেখে, কিন্তু ভুল দেখেও চুপ থাকে—তখন সেই নীরবতাই অন্যায়ের শক্তি হয়ে দাঁড়ায়।
একজন প্রকৃত নেতার সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য তার সমালোচনা গ্রহণ করার মানসিকতায়। কারণ ভুল শুধুই সাধারণ মানুষ করে না, নেতা-নেত্রীরাও ভুল করেন। ক্ষমতার চারপাশে যখন শুধু প্রশংসার দেয়াল গড়ে ওঠে, তখন সত্য ধীরে ধীরে হারিয়ে যায়। চাটুকারিতা নেতাকে সাময়িক আনন্দ দিলেও, তা শেষ পর্যন্ত ব্যক্তি, দল এবং রাষ্ট্র—সবকিছুর ক্ষতি করে।
দেশ ও জাতির প্রতি দায়বদ্ধ একজন মানুষ কখনো অন্যায়কে সমর্থন করতে পারে না। সে নিজের প্রিয় মানুষটির বিরুদ্ধেও সত্য কথা বলার সাহস রাখে। কারণ ব্যক্তি নয়, সত্য ও ন্যায়ের অবস্থানই সবচেয়ে বড়। একজন নেতা যদি ভুল করেন আর তার অনুসারীরা যদি সেই ভুলকে ঢেকে রাখে, তাহলে তারা শুধু একজন মানুষকে নয়—পুরো সমাজকেই অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেয়।
ইতিহাসে দেখা গেছে, অনেক বড় বড় পতনের পেছনে শত্রুর চেয়ে বেশি দায় ছিল অন্ধ অনুসারীদের। যারা নেতার প্রতিটি কথাকে সত্য মনে করেছে, প্রতিটি ভুলকে বৈধতা দিয়েছে। অথচ প্রকৃত ভালোবাসা কখনো অন্ধ হয় না। প্রকৃত ভালোবাসা ভুল ধরিয়ে দেয়, অন্যায়ের সামনে মাথা নত করে না।
তাই একজন সচেতন নাগরিকের দায়িত্ব শুধু নেতা বন্দনা করা নয়; বরং সত্যের পক্ষে দাঁড়ানো। কারণ দেশ কোনো একক ব্যক্তির নয়, দেশ সবার। নেতা মহান হতে পারেন, পবিত্র হতে পারেন, কিন্তু ন্যায়বিচার ও মানবতার ঊর্ধ্বে কেউ নন। আর যে মানুষ অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে শেখেনি, দেশ একদিন তার কাছ থেকে আশাও করা বন্ধ করে দেয়।
লেখক গবেষক রাজনৈতিক বিশ্লেষক সরিষাবাড়ি জামালপুর