1. multicare.net@gmail.com : দৈনিক জামালপুরসংবাদ ২৪ :
বুধবার, ২৬ জুন ২০২৪, ০২:৩১ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ :
গোদাগাড়ীতে ট্রাকচাপায় মোটরসাইকেল আরোহী পুলিশ সদস্যের এক ছেলে নিহত । নরসিংদীতে তিন বছরের শিশু মাইশার লাস উদ্ধার আটক তিন সংকোচিত হয়েছে নির্যাতিতদের প্রতিকারের পথ : বাংলাদেশ ন্যাপ বকশীগঞ্জে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতীয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট উদ্বোধন বিশ্বনাথে ট্রাকসহ ২২০ বস্তা ভারতীয় চিনি পুলিশের জব্ধ গোয়াইনঘাটে টাস্কফোর্সের অভিযানে ১৯ লাখ টাকার ভারতীয় চিনি জব্দ দোয়ারাবাজারে বিজিবি’র অভিযানে ভারতীয় কসমেটিকস, সুপারি ও নাসির বিড়ি জব্ধ সিলেটে মুক্তিপণ আদায়কারীদের হাতে যুবক খুনের ঘটনায় ১ জন গ্রেফতার গোদাগাড়ীতে রিকশা চালককে গরম রড দিয়ে রাতভর নির্যাতন, গ্রেফতার ১। সরিষাবাড়ীতে আবারো সংখ্যালঘু পরিবারের ওপর হামলা, মোবাইল ছিনতাই, ৯৯৯ এ কল

ধন সম্পদ অর্জনে ইসলামের নির্দেশনা। মাওলানা শামীম আহমেদ

প্রতিবেদকের নাম:
  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৩
  • ৭৭ বার পড়া হয়েছে

 

মাওলানা শামীম আহমেদ

 

দুনিয়ায় চলতে ফিরতে ধন-সম্পদের প্রয়োজন আছে। ইসলাম সে প্রয়োজনের কথা শুধু স্বীকারই করে না, বরং এর জন্য মন-মেধা, কায়িক শ্রমণ্ডদক্ষতা ও পর্যাপ্ত সময় ব্যয় করে উপার্জন ও অনুসন্ধানের নির্দেশ দিয়েছে। ইসলামে হাত গুটিয়ে বসে থাকার কোনো সুযোগ নেই। স্ত্রী-সন্তান, উপার্জনে অক্ষম মা-বাবা, ভাইবোন ও নিকটাত্মীয়ের ভরণ-পোষণের দায়িত্বভার প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের ওপর অর্পণ করা হয়েছে। বৈরাগ্যবাদের ব্যাপারে কঠোর ভাষায় নিন্দা করা হয়েছে। সুতরাং সম্পদ উপার্জনের বিকল্প নেই। ফরজ ইবাদতগুলো পালনের পর সম্পদ উপার্জন-অনুসন্ধানও একটি আবশ্যিক দায়িত্ব। কিন্তু এ সম্পদ উপার্জনে ইসলাম কিছু মৌলিক দিকনির্দেশনা দিয়েছে; যা অনুসরণ করে সম্পদ উপার্জন করলে একজন মানুষ দুনিয়া ও আখেরাতে সফল হতে পারবে। সেসব নির্দেশনা হলো-

বিশ্বাস ঠিক রাখা : সম্পদের প্রকৃত মালিক মহান আল্লাহ। আমরা শুধু আহরণকারী। সাময়িক ভোগ-বিলাসের ক্ষমতা রাখি। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তোমরা ভেবে দেখেছ? যেসব কৃষিজাত পণ্য তোমরা উৎপন্ন কর, তা তোমরা অঙ্কুরিত কর নাকি আমি করি?’ (সুরা ওয়াকিয়া : ৬৩-৬৪)। আল্লাহতায়ালা আরও বলেন, ‘তারা কি দেখছে না, আমার সৃষ্ট প্রাণীদের মধ্যে কিছু চতুষ্পদ প্রাণীও আমি তাদের জন্য সৃষ্টি করেছি। ফলে তারা এর মালিক বনে গেছে!’ (সুরা ইয়াসিন : ৭১)। তিনি আরও বলেন, ‘আল্লাহ আকাশ থেকে বৃষ্টি বর্ষণ করেন, এরপর সেই পানি দ্বারা আমি বিভিন্ন ধরনের উদ্ভিদ উৎপন্ন করি। তোমরা তা থেকে ভক্ষণ কর এবং প্রাণীদের চরাও।’ (সুরা তহা : ৫৩)। সুতরাং স্পষ্টই বোঝা যাচ্ছে, আসলে সম্পদের প্রকৃত মালিক কে! এ বিশ্বাস অন্তরে বদ্ধমূল থাকলে সম্পদ উপার্জিত হলে নানা অন্যায়-অপরাধ থেকে বাঁচা সম্ভব হবে। নইলে অভিশপ্ত কারুনের মতো নিজেকেই সম্পদের প্রকৃত মালিক ভেবে কৃপণ স্বেচ্ছাচারী ও দাম্ভিক হয়ে উঠবে। কারুনকে যখন হজরত মুসা (আ.) ও তার সম্প্রদায়ের লোকেরা দান-খয়রাতের কথা বলতেন, তখন সে বলত, ‘আমি তো এ ধনভাণ্ডার প্রাপ্ত হয়েছি আমার জ্ঞানের বলে।’ (সুরা কাসাস : ৭৭-৭৮)। হজরত শোয়াইব (আ.) যখন তার জাতিকে সম্পদের স্বেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে ভয় দেখাতেন, তখন তারা বলত, ‘হে শোয়াইব, তোমার সালাত কি এ নির্দেশ করে যে, আমরা সম্পদের যথেচ্ছা ব্যবহার ছেড়ে দিই?’ (সুরা হুদ : ৮৭)।

আল্লাহর হুকুম জেনে উপার্জন করা : জীবন ধারণের জন্য সম্পদ প্রয়োজন। এ সম্পদ আল্লাহতায়ালা প্রকৃতিতে রেখে দিয়েছেন। মানুষের দায়িত্ব তার শ্রম, মেধা ও যোগ্যতা কাজে লাগিয়ে সে সম্পদ আহরণ করে নেয়া। এ ক্ষেত্রে আল্লাহর ওপর ভরসা করে হাত গুটিয়ে বসে থেকে বলবে, ‘তাওয়াক্কালতু আলাল্লাহ’ মানে আমি আল্লাহর ওপর ভরসা করলাম। তিনিই মুখে রিজিক তুলে দেবেন বা ঘরে পৌঁছে দেবেন, তা হবে না। বরং রিজিক খুঁজে নিতে হবে। এটাই আল্লাহর নির্দেশ। পবিত্র কোরআনে এসেছে, ‘যখন সালাত শেষ হবে, তখন তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়। আর আল্লাহর অনুগ্রহ (রিজিক) অনুসন্ধান কর এবং আল্লাহকে বেশি বেশি স্মরণ কর; যাতে সফল হতে পার।’ (সুরা জুমা : ১০)। রাসুল (সা.) বলেন, ‘হালাল রিজিক অনুসন্ধান করা ইসলামের মৌলিক ফরজগুলোর পর অন্যতম ফরজ।’ (কানযুল উম্মাল : ৯২৩১)। সুতরাং একজন মানুষ যখন কর্মক্ষেত্রে যাবে বা কাজের উদ্দেশ্যে বেরুবে, তখন তার মাথায় এ বিষয়টি ভালোভাবে গেঁথে নিতে হবে যে, আমি আমার রবের বিধান পালন করার জন্য বেরিয়েছি। তখন ব্যক্তির মধ্যে দায়িত্ববোধ ও কাজের প্রতি আগ্রহ জন্মাবে। আলস্যভাব তার থেকে দূর হবে। সর্বোপরি ইবাদতের সওয়াব মিলবে।

পরকাল না ভোলা : দুনিয়ার জীবনই শেষ জীবন নয়। এ জীবনের পর আরও একটি জীবন আছে। সেটি হবে অনন্তকালের জীবন। সে জীবনের সফলতাই প্রকৃত সফলতা। আর সে জীবনের বিফলতাই প্রকৃত বিফলতা। সে জীবনের ভোগ-বিলাস হবে চিরস্থায়ী। আর এ জীবনের ভোগ-বিলাস হচ্ছে ক্ষণস্থায়ী। সুতরাং দুনিয়ার সম্পদ উপার্জন করতে গিয়ে সে জীবনের কথা ভোলা যাবে না। এমনটি অবশ্যই নিন্দনীয়। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘হে মোমিনগণ, তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি যেন তোমাদের আল্লাহর স্মরণ থেকে উদাসীন না করে। আর যারা এরূপ করবে, তারাই হবে ক্ষতিগ্রস্ত।’ (সুরা মোনাফিকুন : ৯)। অন্য আয়াতে এসেছে, ‘প্রাচুর্যের প্রতিযোগিতা তোমাদের মোহাচ্ছন্ন করে রাখে। এমনকি (এ অবস্থায়) তোমরা কবরে উপস্থিত হও। এটা ঠিক নয় (এর পরিণতি সম্পর্কে) অচিরেই তোমরা জানতে পারবে।’ (সুরা তাকাসুর : ১-৩)। আল্লাহতায়ালা আরো বলেন, ‘তোমরা দুনিয়ার জীবনকে প্রাধান্য দিচ্ছ, অথচ পরকালের জীবন সর্বোত্তম ও স্থায়ী।’ ( সুরা আলা : ১৬-১৭)।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
Theme Customized BY LatestNews