1. multicare.net@gmail.com : দৈনিক জামালপুরসংবাদ ২৪ :
সোমবার, ২৪ জুন ২০২৪, ০৮:৩৪ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ :
শিবপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত পিংনা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের উদ্যোগে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭৫ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উৎযাপন বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ, বিএনপি নেতা ছাতকের সৈয়দ তিতুমীর আর নেই শিল্পকলা প্রতিযোগিতায় আবৃতিতে জেলার শ্রেষ্ঠ ছাতকের হৃদি তরফদার ছাতকে নোয়ারাই ইউনিয়নের লক্ষিবাউর এলাকায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের সরকারি সহযোগিতা কামনা উত্তর খুরমা ইউনিয়নের বন্যা আশ্রয় কেন্দ্রে ইউপি চেয়ারম্যান বিল্লাল আহমদের ত্রাণ বিতরণ কোম্পানিগঞ্জে বন্যা দুর্গতদের মধ্যে থানা পুলিশের ত্রাণ বিতরণ গোদাগাড়ীতে ট্রাকের ধাক্কায় এক যুবক নিহত । বন্যায় ভেঙ্গে যাওয়া ছাতক-সুনামগঞ্জ সড়কের আন্দারীগাঁও এলাকা পরিদর্শনে উপজেলা চেয়ারম্যান ছাতকে বিভিন্ন ইউনিয়নে বানবাসী মানুষের পাশে দাড়িয়েছেন—মাহির চৌধুরী

এ প্রচন্ড গরমে শিশুদের প্রতি পরিচর্যা।

প্রতিবেদকের নাম:
  • প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ মে, ২০২৩
  • ৬০২ বার পড়া হয়েছে

 

মাওলানা শামীম আহমেদঃ-

শুরু হয়েছে গরমের মৌসুম। তাপমাত্রার এই ব্যাপক তারতম্যের স্বাস্থ্য ঝুঁকির প্রথম শিকার হয় শিশুরা। বড়দের মতো আবহাওয়ার দ্রুত তারতম্যের সঙ্গে শিশুরা নিজেকে মানিয়ে নিতে অনেক সময়ই পারে না। গ্রীষ্মকালের গরম সবার জন্যই কষ্টকর। তবে শিশুরা খুব বেশি স্পর্শকাতর বলে অনেকে গরম আবহাওয়ায় সহজে খাপ খাওয়াতে পারে না। তাই অন্যান্য সময়ের তুলনায় এ সময় শিশুদের জন্য বেশি কষ্টকর ও অসহনীয়। ফলে জ্বর, পেট খারাপ, সর্দি, কাশিসহ নানা শারীরিক অসুস্থতা দেখা দেয়। এ জন্যই এ গরমে শিশুর দরকার বাড়তি যত্ন। বিস্তারিত লিখেছেন- অধ্যাপক ডা. মনজুর হোসেন

গরমে শিশুরা ভাইরাল জ্বর, বিভিন্ন শ্বাসতন্ত্রের সমস্যাসহ নিউমোনিয়ায় ভুগতে পারে। এ সময় জলবসন্ত বা চিকেনপক্সসহ অন্যান্য সংক্রামক রোগও বেশি হয়। গরমে শিশুর পেট খারাপ হওয়ার শঙ্কাটাও বেশি থাকে। ছয় মাস বয়সি শিশুদের জন্য মায়ের বুকের দুধের সঙ্গে পানি ও অন্যান্য খাবার দিতে হবে। শিশু মাত্রই যত্নের দরকার প্রতি মুহূর্তেই। তা হোক শীত, গ্রীষ্ম কিংবা বর্ষাকাল। তীব্র গরমে নানা স্বাস্থ্য জটিলতার মুখোমুখি হয় শিশুরা। তাই বাবা-মার উচিত সব সময় তাদের যত্নের বিষয়ে সচেতন থাকা। এ সময়ে শিশুদের নানা অসুখ-বিসুখ হতে পারে।

 

জ্বর

শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রার চেয়ে বেশি তাপমাত্রাই (>৯৮.৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট) হলো জ্বর। জ্বর কোনো রোগ নয়, শরীরের কোনো অসুস্থতা বা সংক্রমণের লক্ষণ অর্থাৎ রোগের উপসর্গ হলো জ্বর। বিভিন্ন কারণে বিভিন্ন ধরনের জ্বর হতে পারে। যেমন ইনফ্লুয়েঞ্জা, ডেঙ্গি, টাইফয়েড, ম্যালেরিয়া, চিকুনগুনিয়া, নিউমোনিয়া, হাম এবং প্রস্রাবের সংক্রমণ ইত্যাদি।

জ্বরের সাধারণ চিকিৎসা

জ্বর কমানোর জন্য প্রথমে দেহের তাপমাত্রা কমানোর জন্য প্যারাসিটামল গ্রুপের ওষুধ খাওয়াতে হবে। অনেক সময় ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণের লক্ষণ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী উপযুক্ত এন্টিবায়োটিক সঠিক মাত্রায় পাঁচ থেকে সাত দিন খেতে হবে। ভাইরাস জ্বরে এন্টিবায়োটিক লাগে না। শিশুদের বেলায় জ্বর হলে একটু বেশি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। মনে রাখতে হবে ৩-৪ দিনের মধ্যে শিশুর জ্বর, সর্দি-কাশি না কমলে এবং জ্বরের সঙ্গে যদি শিশুর বেশি বমি হয় বা পাতলা পায়খানা হয়, অনবরত কাঁদতে থাকে, শরীরে গুটি বা দানা দেখা দেয়, খিঁচুনি হয় তাহলে জরুরিভাবে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

গা মোছানো বা স্পঞ্জিং

জ্বর হলে প্রাথমিকভাবে কুসুম গরম পানি দিয়ে স্পঞ্জিং করা উচিত। খুব ঠান্ডা পানি ব্যবহার করা ঠিক নয়। পুরো শরীর কুসুম গরম পানিতে ভেজানো নরম কাপড় বা তোয়ালে দিয়ে একটানা কয়েকবার আলতো করে মুছে দিলে শরীরের তাপমাত্রা কমে যায় এবং শিশুরা খুব ভালো বোধ করে।

ডায়রিয়া বা পাতলা পায়খানা

গরমের সময় সাধারণত ডায়রিয়া বা পাতলা পায়খানা বেশি হয়। প্রতিদিন কমপক্ষে তিনবার বা এর বেশি অতিরিক্ত পাতলা পায়খানা হলে তাকে ডায়রিয়া বলে। তবে স্বাভাবিক পায়খানা যদি তিনবার বা তার বেশি হয়, তা কিন্তু ডায়রিয়া নয়। যে শিশুরা বুকের দুধ পান করে, তারা যদি বারবার নরম পায়খানা করে, সেটি ডায়রিয়া নয়। ডায়রিয়ায় মলের চেয়ে পানির পরিমাণ অনেক বেশি থাকে। পাতলা পায়খানার সঙ্গে যদি রক্ত মিশ্রিত থাকে, সেটি আমাশয়। ডায়রিয়ার কারণে শরীর থেকে প্রচুর পানি ও খনিজ লবণ বের হয়ে যায়। তাই ডায়রিয়া হলে পানির ঘাটতি বা পানিশূন্যতা দেখা যায়। মনে রাখতে হবে, শিশু যেন পানিশূন্যতায় না ভোগে। তার প্রস্রাবের পরিমাণ স্বাভাবিক আছে কি না, লক্ষ রাখতে হবে। শিশুর ডায়রিয়া হলে তাকে ঘন ঘন স্যালাইন খাওয়াতে হবে। এ সময় কোনো অবস্থাতেই মায়ের বুকের দুধ বন্ধ করা যাবে না। ছয় মাস বয়সি শিশুদের ক্ষেত্রে মায়ের দুধের সঙ্গে পানি ও অন্যান্য খাবারও দিতে হবে। একইসঙ্গে তাকে তরল খাবারও দিতে হবে। যতক্ষণ পর্যন্ত শিশুর পায়খানা স্বাভাবিক না হচ্ছে ততক্ষণ পর্যন্ত এ নিয়ম মেনে চলতে হবে। লক্ষ্য রাখতে হবে প্রস্রাবের পরিমাণ যেন স্বাভাবিক থাকে। শিশুর পায়খানার সঙ্গে যদি রক্ত যায় তবে অবহেলা না করে অবশ্যই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে।

পানিশূন্যতায় করণীয়

স্বাভাবিক পানিশূন্যতার রোগীরা বাড়িতেই চিকিৎসা নিতে পারে। তাদের ক্ষেত্রে প্রতিবার পাতলা পায়খানার পর খাবার স্যালাইন খেতে হবে।

দুই বছরের কম বয়সি শিশুর ক্ষেত্রে-

* প্রতিবার পাতলা পায়খানার পর ৫০-১০০ মিলিলিটার স্যালাইন খাওয়াতে হবে।

* যেসব শিশু বুকের দুধ খায়, তাদের ক্ষেত্রে স্যালাইনের পাশাপাশি বুকের দুধ দিতে হবে।

* একসঙ্গে পুরো স্যালাইন খেতে না পারলে অল্প অল্প করে স্যালাইন দিতে হবে।

২ থেকে ৯ বছর পর্যন্ত শিশুদের ক্ষেত্রে-

* ১০০-২০০ মিলিলিটার (১-২ কাপ) স্যালাইন খাওয়াতে হবে প্রতিবার পায়খানার পর।

১০ বছর বা এর বেশি বয়সি শিশুদের ক্ষেত্রে-

* যতটুকু খেতে চায় সেই পরিমাণ খাওয়াতে হবে। সঙ্গে স্বাভাবিক খাবার খেতে হবে।

* যদি বমি করে, ১০ মিনিট অপেক্ষা করে আবার স্যালাইন খাওয়াতে হবে।

* ডায়রিয়া বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত স্যালাইনের পাশাপাশি অন্যান্য পানীয়ও দিতে হবে।

এ ছাড়া গরমে শিশুরা অত্যধিক ঘামে। এ ঘামের কারণেও শিশুর শরীর থেকে পানি ও লবণ বেরিয়ে যায়। ফলে শিশুর পানিশূন্যতা দেখা দেয়। এ সময়টায় শিশুকে প্রচুর পরিমাণে পানি ও তরল খাওয়ানো দরকার।

ঠান্ডা বা সর্দি কাশি এবং নিউমোনিয়া

গরমে শিশুদের ঠান্ডার সমস্যাটাও বেশি হতে দেখা যায়। গরমে অতিরিক্ত ঘামের ফলে ঠান্ডা লেগে যেতে পারে। তাই শিশু ঘেমে গেলে সঙ্গে সঙ্গে তার শরীর মুছে দিয়ে কাপড় বদলে দিতে হবে। গরমে শিশুকে নিয়মিত গোসল করাতে হবে। পরিষ্কার রাখতে হবে শরীর ও পরিবেশ। শিশুদের সংক্রমণের ফলে শ্বাসতন্ত্রের প্রদাহ ও নিউমোনিয়ার লক্ষণগুলো অনেক ক্ষেত্রেই সুনির্দিষ্ট নাও হতে পারে। শিশুদের শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণের কয়েকটি সাধারণ লক্ষণ হলো-

* জ্বর

* দ্রুত, ভারী ও ঘনঘন শ্বাসপ্রশ্বাস

* শ্বাসের সঙ্গে শো শো শব্দ

* বুকের পাঁজর বা খাঁচা ডেবে যাওয়া

* খেতে না পারা বা খাওয়ানোতে অসুবিধা হওয়া

* দুর্বল, ক্লান্তি বা ঝিমুনি ভাব

মনে রাখবেন, বাচ্চার বয়স যদি তিন মাসের কম হয়, বাচ্চা যদি একেবারে খাওয়া ছেড়ে দেয়,

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
Theme Customized BY LatestNews